.jpg)
Hridoy Singha
Trainer
Success Story
আমি হৃদয় সিংহ, নড়াইলের ছেলে। বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর মনে একটাই স্বপ্ন বাসা বেঁধেছিল—বিদেশে যাবো, নিজের জন্য একটা ভালো ভবিষ্যৎ গড়বো। কিন্তু শুধু স্বপ্ন দেখলেই তো হয় না, বাস্তবে সেটার জন্য প্রস্তুতিও লাগে। তখন মনে হলো, দেশের বাইরে যখন যাবোই, তাহলে হাতে একটা টেকনিক্যাল কাজ শিখে নেওয়া দরকার—যেটা ওখানে গিয়ে সত্যিকারের কাজে লাগবে। এই চিন্তা থেকেই একদিন মোবাইলে ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে চোখে পড়লো IFixFast-এর একটা ভিডিও। মোবাইল সার্ভিসিং জিনিসটা তখন আমার কাছে পুরোপুরি নতুন, তবুও কেন জানি মনে হলো—এটাই হতে পারে আমার সেই টেকনিক্যাল স্কিল। দেরি না করে যোগাযোগ করলাম, আর ২০২৪ সালের ১০ই জুন ভর্তি হয়ে গেলাম বেসিক কোর্সে। শুরুর দিনগুলো ছিল একদম নতুন এক জগতে পা রাখার মতো অনুভূতি। মোবাইলের যন্ত্রাংশ, সমস্যা নির্ণয়, মেরামতের কৌশল—সবকিছু শিখতে শিখতে কখন যে বেসিক পেরিয়ে অ্যাডভান্স পর্যায়ে পৌঁছে গেলাম, নিজেই টের পাইনি। প্রতিটা দিন শেষে মনে হতো, গতকালের চেয়ে আজ একটু বেশি দক্ষ হয়ে উঠেছি। ২৮শে ডিসেম্বর যখন কোর্স সম্পূর্ণ করলাম, ভেবেছিলাম হয়তো এখানেই এই অধ্যায়ের শেষ। কিন্তু জীবন আমার জন্য অন্য কিছু সাজিয়ে রেখেছিল। কোর্স শেষ হতেই IFixFast কর্তৃপক্ষ প্রস্তাব দিলেন ট্রেইনার পদে যোগ দেওয়ার জন্য। এই মুহূর্তটা আমার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটা ছিল—যে জায়গায় আমি একদিন ছাত্র হয়ে পা রেখেছিলাম, সেই একই জায়গায় আজ আমি দাঁড়িয়ে আছি একজন শিক্ষক হয়ে। বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যে যাত্রা শুরু করেছিলাম, সেটা আমাকে একেবারে ভিন্ন এক পথে নিয়ে এসেছে—যেখানে আমি নিজে শিখেছি, আর এখন প্রতিদিন অন্যদের শেখাচ্ছি। ক্লাসে নতুন শিক্ষার্থীদের চোখে যখন সেই একই উৎসাহ দেখি, যা একদিন আমার চোখেও ছিল, তখন মনে হয়—জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলো অনেক সময় লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গায়।