
Piyash karmakar
owner
Success Story
এইচএসসি পরীক্ষার পর সবার মনেই প্রশ্ন থাকে—"এখন কী করব?" আমার পরিবার থেকেও একই কথা এলো, "বসে না থেকে কিছু তো একটা করতে হবে।" বেশ চিন্তা-ভাবনা করে আমার প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিলাম মোবাইল সার্ভিসিং। শুরুটা ছিল ফেনীর একটি লোকাল দোকানে। সেখানে কিছুদিন কাজ শেখার পর বুঝতে পারলাম—আমার মধ্যে এই কাজের প্রতি সত্যি আগ্রহ আছে এবং আমি এতে ভালো কিছু করতে পারব। কিন্তু নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে অ্যাডভান্স লেভেলের ট্রেনিং দরকার ছিল। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম ঢাকা গিয়ে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রফেশনাল কোর্স করব। ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে একদিন iFixFast-এর একটি বিজ্ঞাপন চোখে পড়ল। অনেক দিন যাচাই-বাছাই করে মনে হলো, প্র্যাকটিক্যালি হাতে-কলমে শেখার জন্য এটিই আমার জন্য সেরা প্ল্যাটফর্ম। ঢাকার অচেনা শহরে এসে শেখার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ ছিল না। মনের মধ্যে অজানা ভয় ছিল। এক বন্ধুকে রাজি করালাম, সেও সাথে শিখবে। কিন্তু ঠিক যখন আমরা ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখনই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি (২৪-এর জুলাই আন্দোলন) উত্তাল হয়ে ওঠে। কয়েকবার তারিখ পিছিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩১ তারিখে আমরা কোর্সে যুক্ত হতে পারি। সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে আমার কাঙ্ক্ষিত শেখার যাত্রা শুরু হলো। কোর্স শেষ করার পর জীবনে নতুন এক মোড় এলো। সৌদি আরব যাওয়ার জন্য আমার দালাল একটি ভিসার ব্যবস্থা করে দেয়। ভেবেছিলাম বিদেশে গিয়ে হয়তো কাজ করব। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—দালালের খপ্পরে পড়ে আমার প্রচুর টাকা-পয়সা মার গেল। নিজের আপন মানুষের মাধ্যমেই প্রতারিত হয়ে মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলাম। তবে আমার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল—আমার হাতের স্কিল! টাকা হারালেও কাজের দক্ষতা তো কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। ভেঙে না পড়ে সিদ্ধান্ত নিলাম নিজের শহরেই কিছু একটা করব। শুরু করলাম নিজের দোকান "Mobile Times"। iFixFast-এ শেখা প্রফেশনালিজম, সার্ভিস দেওয়ার ধরণ এবং তাদের গাইডলাইনগুলো হুবহু নিজের ব্যবসায় প্রয়োগ করতে লাগলাম। কঠোর পরিশ্রম আর সততার ফল পেতে বেশি দিন সময় লাগেনি। আস্তে আস্তে কাস্টমারের আস্থা অর্জন করলাম, ব্যবসা বাড়তে লাগল। আর আজ সৃষ্টিকর্তা রহমতে সেই একই মার্কেটে আমি আমার দ্বিতীয় দোকানটি নিয়েছি