
Abu Rayhan
Technician
Success Story
স্বপ্নের পেছনে এক অদম্য যাত্রা জীবন সব সময় সোজা পথে চলে না। আমার গল্পটাও সহজ ছিল না। একটা সময় ছিল যখন মোবাইল সার্ভিসিং সেক্টরে নিজেকে দক্ষ ও প্রতিষ্ঠিত করার একটা তীব্র ইচ্ছা আমার মনের ভেতরে বাসা বাঁধে। কিন্তু এই ইচ্ছা আর স্বপ্নের পেছনের পথটা ছিল প্রচুর ত্যাগ, মেহনত আর অধ্যবসায়ে ভরা। এই কাজটা নিখুঁতভাবে শেখার জন্য আমাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। নিজের সব জমানো সঞ্চয়, এমনকী সাধ্যের বাইরে গিয়েও অনেক টাকা খরচ করেছি এই অ্যাডভান্স ট্রেনিং ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি কেনার জন্য। বাসা থেকে দূরে থেকে ট্রেনিং নেওয়ার সময় থাকার সুবিধা খুব একটা সহজ ছিল না, ছিল না কোনো বিলাসিতা। তবুও কাজের প্রতি ব্যাকুলতা আর শিখার আগ্রহের কাছে কোনো কষ্টই বাধা হতে পারেনি। চোখের সামনে ছিল শুধু একটা লক্ষ্য—আমাকে এই প্রযুক্তির জগতে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করতেই হবে। আইসি (IC), মাদারবোর্ড, আর সূক্ষ্ম সার্কিটের কাজ করতে করতে দিন-রাত এক করে দিয়েছিলাম। শত বাধা আর প্রতিকূলতার পরও হাল ছাড়িনি। কাজের প্রতি এই একনিষ্ঠতা আর ত্যাগের ফল অবশেষে মিলল। প্রথমে IFixFast Training Center থেকে বেসিক ও অ্যাডভান্স মোবাইল রিপেয়ারিং ট্রেনিং সফলভাবে সম্পন্ন করি। অ্যাডভান্স লেভেলের কাজ যেমন—eMMC UFS repair, iPhone FaceID এবং board swap-এর মতো জটিল কাজগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করতে সক্ষম হই। এরপরের সবচেয়ে বড় অর্জন আসে সরকারি স্বীকৃত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে Mobile Phone Servicing, Level-1 ন্যাশনাল স্কিল সার্টিফিকেট অর্জনের মাধ্যমে। আজ যখন হাতের এই সার্টিফিকেট দুটো আর নিজের অর্জিত দক্ষতার দিকে তাকাই, তখন মনে এক অপরিসীম আনন্দ আর তৃপ্তি কাজ করে। পেছনের ত্যাগের দিনগুলো আজ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। আজ আমি গর্ব করে বলতে পারি—সঠিক লক্ষ্য, চেষ্টা আর সততা থাকলে কোনো বাঁধাই মানুষকে আটকে রাখতে পারে না!