Md Rana miah
Entrepreneur
Scan to view profile

Md Rana miah

Mobile Technician

Student ID
STU-2420B006
District
Hobigonj
Batch
Batch 20
Profession
Entrepreneur
Current Status
Hobigonj
Shop/Company
Khan Mobile Servicing Center
Shop Address
Muktijoddha Market, Noapara Dakhhin Bazar, Madhavpur, Hobigonj.
Business Phone
017******25
Course Name
Basic
Joining Date
28 Oct 2024
Completion Date
25 Feb 2025

Success Story

তখন ২০২৩ সাল। এইচএসসি পাশ করি। পড়ালেখায় তেমন একটা মনোযোগী ছিলাম না, পড়ালেখা ভালো লাগত না। তখন আমার মা-বাবা এবং পরিবারের সবাই খুব চিন্তায় ছিল—আমার ভবিষ্যৎ কী হবে? আমি ভবিষ্যতে কিছু করতে পারব কি না—এটা নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। তখন ভাবলাম, কী করব? কিছুই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তখন আমার বড় ভাই আমাকে পরামর্শ দিলেন, “মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ শিখতে পারিস।” তখন আমি মা-বাবাকে জানালাম, আমি মোবাইল সার্ভিসিং শিখতে চাই। আমার প্রতি তাঁদের একদমই কনফিডেন্স ছিল না যে আমি পারব। কিন্তু আমার বড় ভাইয়ের আমার প্রতি বিশ্বাস ছিল। তখন আমার বড় ভাই তাঁদের বুঝিয়ে বললেন, “ও পারবে।” এরপর আমি খোঁজখবর নিতে শুরু করলাম, কোথা থেকে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ শিখতে পারি। অতঃপর ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে একটি অ্যাড সামনে এলো—iFix Fast-এর। তারপর তাঁদের পেজে টেক্সট দিলাম। তাঁদের সঙ্গে কন্টাক্ট করে ২৮/১০/২০২৪ তারিখে ঢাকায় চলে গেলাম। আমি এর আগে কখনো বাড়ির বাইরে থাকিনি। তাই পরিবারের সবার মনে হয়েছিল, আমি এতদিন ঢাকায় থেকে থাকতে পারব কি না। এমনকি আমার মামা আমার বড় ভাইকে বলেছিলেন, “ও এক সপ্তাহের বেশি থাকতে পারবে না।” তখন আমার বড় ভাই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, “ও পারবে।” আমিও মনে সাহস রাখলাম এবং মন স্থির করলাম—আমাকে পারতেই হবে। তারপর টানা সাত মাস ঢাকায় থেকে আমার কাজ সম্পূর্ণ করি। সেখানে তিন মাসের কোর্স করলাম। এরপর আরও চার মাস এক্সট্রা থেকে প্রোপারলি কাজ শেখার জন্য সময় দিলাম। আমার লক্ষ্য ছিল, আমার মা-বাবার আমার প্রতি যে ভুল ধারণা ছিল, সেটা ভেঙে দেওয়া। আমার কাজের প্রতি মনোযোগ, আগ্রহ ও পরিশ্রম দেখে একসময় আমার মামারও ভুল ধারণা ভেঙে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন, আমি সত্যিই কিছু করতে চাই এবং আমার কাজের প্রতি আমি যথেষ্ট সিরিয়াস। এরপর তিনিও আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছেন এবং উৎসাহ দিয়েছেন। তখন আমার বড় ভাই আমাকে অনেক বেশি সাপোর্ট দিয়েছেন। তিনি আমার নিজের প্রতি কনফিডেন্স বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রথমে আমার বাবারও আমার প্রতি কনফিডেন্স ছিল না যে আমি কিছু করতে পারব। কিন্তু ঢাকায় যাওয়ার পর তিনিই আমাকে সাহস জুগিয়েছেন। বলেছেন, “মানুষ চাইলে সবকিছু করতে পারে। ইনশাআল্লাহ, তুমিও পারবে, বাবা।” তারপর আমি নিজেকে বুঝালাম—আমি পারব, আমাকে পারতেই হবে। অতঃপর আমি তিন মাসে কাজ শিখি এবং আরও চার মাস এক্সট্রা থেকে কাজের দক্ষতা অর্জন করি। পরবর্তীতে বাড়ি ফিরে নিজের একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতে চাইলাম। তখন আমার বাবা আমাকে একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে দেন। এই প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর সম্পূর্ণ ক্রেডিট আমার বাবা, মা এবং বড় ভাইয়ের। বাবা আমাকে আর্থিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছেন, আর আমার বড় ভাই ও মা আমাকে মানসিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছেন। আমার মামাও পরবর্তীতে আমাকে অনেক উৎসাহ ও সাপোর্ট করেছেন। অবশেষে ১/১১/২০২৫ তারিখে আমি আমার প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধন করি। এখন আলহামদুলিল্লাহ, আমি সৎ পথে ভালো উপার্জন করতে পারি। আল্লাহর অশেষ কৃপায় এবং আমার বড় ভাইয়ের পরামর্শে জীবনে ভালো কিছু করতে পেরেছি। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া, আমাকে এতটুকু দেওয়ার জন্য। আর আমার বাবা, মা, বড় ভাই এবং মামাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তাঁরা যদি আমাকে সাপোর্ট না দিতেন, তাহলে হয়তো আমি আজ এই জায়গায় আসতে পারতাম না। বাবা, মা, ভাইয়া এবং মামা—আপনাদের প্রতি অসংখ্য কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। ❤️ আপনারা পাশে ছিলেন বলেই আজ আমি বলতে পারি—“আমি পেরেছি।” আলহামদুলিল্লাহ। ❤️